চীনে প্রযুক্তি বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা, ভর্তি ও সহজে ভিসা পেতে করণীয়।

2

কিছুদিন আগে পরিচিত এক ছোটভাই চীনে গেল পড়াশুনার জন্য। সাবজেক্ট ছিল কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। বাংলাদেশের কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেয়ে কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না। বিগত দু’বছরের দেশের অবস্থা বিবেচনা করে আর অন্যান্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে ঢের প্রশ্ন থাকায় চিন্তা করছিল ভারতে যাবে পড়তে। কিন্তু অন্য আরেকটি বিষয় চিন্তা করে ভারত বাদ দিয়ে চীনের দিকেই চোখ দিলো। এর পিছনে সবচেয়ে বড় যে কারন তা হলোঃ প্রযুক্তিতে চীন এখন অন্য সব দেশের চেয়ে এগিয়ে।

আমি তাকে আমার দিক থেকে যেভাবে সম্ভব বুদ্ধি ও শ্রম দিয়ে সহায়তা করেছিলাম। তার চীনে যাওয়া ও আনুষাঙ্গিক বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যা আমি নিজ চোখে দেখেছি ও সমাধানে সহায়তা করেছি। ফলে আমার নিজের বেশ ভাল একটি আইডিয়া হয়েছে, কি করতে হয়, কিভাবে করতে হয়, বা কিভাবে কাজ গুলো সহজ করতে হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি আমার সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই আজকের এই লেখাটি লিখছি। আশাকরি যারা চীনে প্রযুক্তি বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য যেতে চায় তাদের কাজে লাগবে।

প্রথমে আমাদের জানা দরকার কি কারনে আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, সাইপ্রাস, মালয়েশিয়া, ভারত বাদ দিয়ে চীনের কথা বিবেচনা করা উচিৎ? এর পিছনে আছে অনেকগুলো কারন।

আসুন জানার চেষ্টা করি সেই কারন গুলোঃ
১) চীনে উচ্চ শিক্ষা’র মান আমেরিকা বা অষ্ট্রেলিয়ার সমমানের।
২) চীনের পড়াশুনা এবং জীবনযাপনের খরচের পরিমান আমেরিকা বা অষ্ট্রেলিয়ার চেয়ে অনেক কম।
৩) চীনে পড়াশুনা করতে যাওয়ার ভিসা পাওয়া অপেক্ষকৃত সহজ।
৪) চীনের পড়াশুনার পাশাপাশি কাজ পাওয়া অনেক সহজ।
৫) আমেরিকা বা অষ্ট্রেলিয়ায় পড়াশুনাকালীন দোকানে বা হোটেলের কাজ ছাড়া অন্য কোন ভাল মানের কাজ পাওয়া যায় না।
৬) কেউ যদি টেকনোলজি বা ব্যবসায় বিষয়ে পড়াশুনা করতে চীনে যায়, তবে পড়াশুনা রিলেটেড চাকুরী পাওয়া অনেক সহজ। ফলে কাংখিত বিষয়ে দক্ষ হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি।
৭) চীন হলো বিশ্বের সবচেয়ে উদীয়মান ও বর্তমানে দ্বিতীয় শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ।
৮) টেকনোলজী ও ব্যবসার ক্ষেত্রে চীনের অগ্রগতি সম্পর্কে আমাদের সকলেরই মোটামুটি জানা আছে। সুতরাং আপনি যদি একটু চোখ-কান খোলা রাখেন তবে, আপনি পড়াশুনা শেষে সেখানেই ভাল কিছু করতে পারবেন।

চীনে উচ্চ শিক্ষা’র জন্য কিভাবে যেতে হবেঃ
চীনে উচ্চ শিক্ষা’র জন্য যেতে চাইলে আপনি নিজে চেষ্টা করলেও পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে। তাই চায়না স্পেশালিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চেষ্টা করলে কাজগুলো অনেক সহজ হয়ে যায়। চীনে ষ্টুডেন্ট পাঠানের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান থাকলেও আপনাকে বেছে নিতে হবে কারা শুধুমাত্র চীনের জন্য স্পেশালিষ্ট। যারা বিশ্বের অনেক দেশেই ষ্টুডেন্ট পাঠায় তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গোজামিল দিয়ে চেষ্টা করে, বিধায় সময় বেশি লাগে ও অনেক ক্ষেত্রে বিফল হয়।

এবার আসুন জেনে নিই চীনে উচ্চ শিক্ষা’র জন্য যাওয়ার সহজ নিয়মঃ
১) আপনি যদি কোন প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে চীনে যেতে চান তবে, প্রথমেই আপনাকে নিদিষ্ট একটি চায়না ষ্টুডেন্ট স্পেশালিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ফাইল ওপেন করতে হবে।
২) আপনার সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, মার্কশীটের মতো কাগজপত্রগুলোর স্ক্যান কপি জমা দিয়ে চায়নাতে পাঠাতে হবে।
৩) চায়নাতে আপনার পাঠানো কাগজপত্র গুলো গ্রহনের পর নিদিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হবে এবং JW202 ফরম পূরন করে এর জন্য আবেদন করতে হবে।
৪) এরপর JW202 কপি (China Ministry of Education এর অথরাইজ সীল যুক্ত প্রিন্টেড কপি) এবং Admission নোটিশ আসবে।
৫) এবার ভিসা প্রসেসিং এর জন্য মেডিকেল টেষ্ট ও ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
৬) ভিসা হয়ে গেলে আপনাকে ১বছরের টিউশন ফি ও আবাসিক খরচ বাবদ নগদ অর্থ চায়নাতে প্রদান করতে হবে।
৭) ব্যাস, এবার ল্যাগেজ রেডি করে এয়রপোর্টে দৌড় দিন।
৮) এরপর চায়নাতে পৌছে হালকা কিছু ফরমালিটি সেরে নিতে হবে। যেমনঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইনাল রেজিষ্ট্রেশন, আবাসিক রেজিষ্ট্রেশন, মেডিকেল টেষ্ট, রেসিডেন্ট পারমিট এর এপ্লাই ইত্যাদি, তারপর ক্লাস শুরু।

যারা চীনে উচ্চ শিক্ষা’র জন্য যেতে ইচ্ছুক তারা, চোখ-কান খোলা রেখে একটি চায়না ষ্টুডেন্ট স্পেশালিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ফাইল ওপেন করে প্রসেসিং শুরু করতে পারেন। নির্ঝঞ্জাটে হয়ে যাবে আপনার স্বপ্ন পূরনের ধাপগুলো।

লেখকঃ Md. Abdul Wadud
সৌজন্যেঃ DK International

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।