তো হয়ে যাক, এক কাপ চায়ের সাথে এক চুমুক ফেসবুক!

Facebook-securityসময়ের সাথে সাথে ফেসবুক হয়ে উঠেছে আমাদের জীবনের প্রতিদিনের অপরিহার্য সার্ভিস। এমন অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী আছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সাথে একটু ফেসবুকে না ঢুকলেই নয়। আবার রাতে ঘুমানো আগেও ফেসবুক চেক করা যেন দিনের সর্বশেষ কাজ! আর সারা দিনের কথা না হয় নাই বললাম। কিন্তু ক’জনই আমরা ফেসবুকের নানারকম ফিচার কিংবা তার ব্যবহার ও একাউন্টের বিভিন্ন রকম নিরাপত্তা সম্পর্কে জানি? অনেকেই হয় অনেক কিছু জানি, কিন্তু আমরা যারা জানিনা তাদের জন্যই এই লেখা।

পেইজে লাইক দিলে কি হয়?
ফেসবুকে কোন পেইজে লাইক দিলে পেইজটি সাবস্ক্রাইব বা ফলোইং হয়ে যায়, ফলে সেই পেইজ থেকে যখনই কোন পোষ্ট দেওয়া হয়, আমরা তখন সেই পেইজের পোষ্টগুলো আমাদের হোম পেইজে দেখতে পাই।

কোন প্রোফাইলকে ফলো করলে কি হয়?
কোন প্রোফাইলকে ফলো করলে প্রোফাইলটি সাবস্ক্রাইব বা ফলোইং হয়ে যায়, ফলে সেই প্রোফাইল থেকে যখনই কোন ষ্ট্যাটাস দেওয়া হয়, আমরা তখন সেই প্রোফাইলের ষ্ট্যাটাস গুলো আমাদের হোম পেইজে দেখতে পাই।

পোষ্ট লাইক দিলে কি হয়?
পোষ্ট লাইক দিলে মূলতঃ সংশ্লিষ্ট পেইজ কিংবা প্রোফাইলের সাথে এনগেজ থাকা হয়। আপনি যখন কোন প্রোফাইলকে ফলো করেন কিংবা কোন পেইজকে লাইক করবেন তখন আপনি ওই প্রোফাইলের ষ্ট্যাটাস আপডেট দেখতে পাবেন। কিন্তু আপনি যদি সেই প্রোফাইল বা পেইজ থেকে আসা ষ্ট্যাটাস গুলোতে মাঝে মাঝে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার দিয়ে এনগেজ না থাকেন, তবে ধীরে ধীরে ওই প্রোফাইল বা পেইজ থেকে আপনি আর ষ্ট্যাটাস আপডেট পাবেন না।

আপনি জানেন কি? আপনি যখন ফেসবুকে কোন পেইজে লাইক দেন, কোন পোষ্টে লাইক দেন, কমেন্ট করেন, কিংবা শেয়ার করেন, তখন আপনার ফ্রেন্ডলিষ্টের বন্ধুরা সেটা জেনে যায়! সুতরাং কোন ধরনের পেইজে বা পোষ্টে আপনি লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করবেন সেটা আপনার ব্যক্তিত্বের উপর নির্ভর করবে।

এবার আসুন নিরাপত্তার বিষয়েঃ

অতিমাত্রায় ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠাবেন না। অতি অল্প সময়ে একের অধিকবার নাম পরিবর্তন করবেন না, ধরা খেয়ে যেতে পারেন!

নিজের আইডি থেকে অযথা অন্য আইডিকে রিপোর্ট করবেন না। কারন ফেসবুকের কাছে আপনার রিপোর্ট যদি সঠিক বা সত্য হিসেবে গন্য না হয়, সেক্ষেত্রে ফেসবুক উল্টা আপনার আইডির বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে পারে৷ এমনকি ভুল কন্টেন্ট এর কারণে আপনার আইডি ডিজেবলও করে দিতে পারে৷ অযথা অন্য আইডিকে রিপোর্ট করবেন না।

অনেকেই তাদের একাউন্ট হারিয়ে ফেলেন ফটো ভেরিফিকেশন করতে না পেরে। কিভাবে বাঁচবেন এই সমস্যা থেকে?
Trusted Contact লিস্টে নুন্যতম ৩ জন থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন পরিচিত ব্যক্তিকে এড করুন৷ পরিচিত বলতে যাদের কাছ থেকে আপনি সরাসরি সাহায্য নিতে পারবেন। নিচের ধাপ অনুসরন করুনঃ
(Settings>Security>Trusted Contacts>Choose trusted contacts)

একাউন্টকে হ্যাকিং এর হাত থেকে বাঁচাতে চান? তাহলে কয়েকটি কাজ করুনঃ
১) Trusted Browser হিসেবে যে কোনো ১ টি বা ২টি ব্রাউজার এড করুন৷ নিচের ধাপ অনুসরন করুনঃ
(Settings>Security>Trusted Browsers)

২) Login Approval সিস্টেম চালু করুন এবং এভাবেই ফেসবুক ইউজ করবেন, এই সিস্টেম বন্ধ করবেন না৷ নিচের ধাপ অনুসরন করুনঃ
(Settings>Security>Login Approvals>Require a security code to access my account from unknown browsers)

৩) Android or iOS ব্যাবহারকারীরা Code Generator সিস্টেম Enable করুন এবং মোবাইলের সাথে থাকা Facebook app থেকেই ফেসবুক ব্যাবহার করবেন৷ নিচের ধাপ অনুসরন করুনঃ
(Settings>Security>Code Generator>Enable)

৪) Browsing history মাঝে মাঝে ক্লিয়ার করবেন৷ নিচের ধাপ অনুসরন করুনঃ
(Settings>Security>Where You’re Logged In>End activity)

৫) Login notification সিস্টেম চালু করুন৷ ফলে আপনার একাউন্ট যদি কেউ হ্যাক করে ঢুকেও পড়ে, তবে সাথে সাথে আপনি জানতে পারবেন যে, আপনার একাউন্টে কেউ প্রবেশ করেছে। নিচের ধাপ অনুসরন করুনঃ
(Settings>Security>Login notifications>Text message/Push notification)

৬) আইডিতে অটো লাইক/কমেন্ট এপস এড করা থাকলে তা এখনি রিমুভ করুন৷ অনুসরন করুনঃ (Settings>Apps)

ফেসবুক নিয়ে অন্য কোন প্রশ্ন থাকলে মন্তব্য করতে পারেন, সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করব।

শুভ হোক আপনার ফেসবুকিং

আপনাদের প্রয়োজনে আমার অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়া প্রোফাইলগুলোকে ফলো করতে পারেন। কোন আপডেট থাকলে এগুলো থেকেই পেয়ে যাবেনঃ
Facebook
Youtube Channel
Twitter
LinkedIn
Google Plus

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।