ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুসংবাদ, আমেরিকার সর্বনিম্ন বেতন ঘন্টায় ১৫ ডলার!

dollarআমেরিকার সর্বনিম্ন বেতন ঘন্টায় ৭.২৫ ডলার এর পরিবর্তে ১৫ ডলার করার একটি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বারাক ওবামা প্রশাসনে। শিরোনাম শুনে আপনার হয়তো মনে হতে পারে, আমেরিকার সর্বনিম্ন বেতন ঘন্টায় ১৫ ডলার হলে আমাদের কি? তাতে আমাদের তো আর কিছু বেতন বাড়ছে না! যারা এমনটি ভাবছেন, তাদের জন্যই লিখছি।

বিদেশী কোম্পানী বলুন আর দেশী কোম্পনাী বলুন, প্রতিষ্টানের খরচ কমানোর জন্য মালিকদের কাছে দিনে দিনে আউটসোর্সিং হয়ে উঠছে জনপ্রিয়। ফলে ফ্রিল্যান্সারদের কদর বেড়ে যাচ্ছে, বেড়ে যাচ্ছে ফ্রিল্যান্সারদের কাজের পরিধি। সেই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে নতুন নতুন ফ্রিল্যান্সারদের পদচারণা।

কেন প্রতিষ্ঠানের মালিকরা আউটসোর্সিং পছন্দ করছেন?
যখন একজন ক্লয়েন্ট কিংবা মালিক আউটসোর্সিং করেন, তার উদ্দেশ্য থাকে যতটা কম খরচে পারা যায় তার কাজ শেষ করা। আউটসোর্সিং এর আরেকটি উদ্দেশ্য থাকে যতটুকু কাজ করবে ততটুকু কাজের পারিশ্রমিক প্রদান করবে। হতে পারে সেটা সম্পূর্ন কাজের পারিশ্রমিক অথবা ঘন্টা চুক্তিতে। একজন ফ্রিল্যান্সার যত ঘন্টা কাজ করবেন, তার মালিক বা ক্লায়েন্ট তাকে তত ঘন্টার পেমেন্ট দিবেন। আউটসোর্সিং করলে একজন মালিক বা ক্লায়েন্টকে স্থায়ী ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ দিতে হয় না। কারন কাউকে স্থায়ী নিয়োগ দিলে যে সমস্যা সামনে আসতে পারে তা হলো, “কাজ না থাকলেও কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে প্রতিমাসে বেতন দিতে হবে”। কিন্তু আউটসোর্সিং করলে যতটুকু কাজ করবে কিংবা যত ঘন্টা কাজ করবে তার পারিশ্রমিক দিতে হবে। আর এ কারনেই মালিকরা আউটসোর্সিং এর প্রতি আকৃষ্ঠ হচ্ছে।

আমেরিকার প্রসঙ্গ দিয়ে কি হবে?
আমেরিকার নুন্যতম বেতন যখন ঘন্টায় ১৫ ডলার হচ্ছে, সেই হিসেবে ৮ ঘন্টা কাজ করলে একজন আমেরিকান মালিক বা ক্লায়েন্টকে তার প্রষ্ঠিানের কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে দিনে ১২০ ডলার বেতন দিতে হবে। যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৯৪০০ টাকা। আর মাস হিসেব করলে ২৮০০০০ টাকার উপরে। সুতরাং স্থায়ীভাবে কাউকে নিয়ে দিলে, কাজ থাকলেও এই টাকা বেতন দিতে হবে, আর না থাকলেও দিতে হবে।
কিন্তু সেই একই কাজের জন্য যদি একজন মালিক আউটসোর্সিং করে, তবে যে ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে কাজ করাবে তাকে তার চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট ঘন্টার পেমেন্ট পরিশোধ করলেই হবে। তাই আমেরিকান মালিক’রা স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার পরিবর্তে খরচ কমানোর জন্য আউটসোর্সিং এর উপর দিনে দিনে আরও বেশি ঝুকে পড়ছে। ফলে চাহিদা বাড়ছে ফ্রিল্যান্সারদের।

আরও একটি সু-সংবাদঃ
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস “ওডেস্ক” তার পলিসিতে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ওডেস্কে ডিসেম্বর থেকে ঘন্টায় ৩ ডলারের নিচে কাউকে হায়ার করতে পারবে না কোন ক্লায়েন্ট। সুতরাং যারা এতদিন ওডেস্কে খুব কম পারিশ্রমিকে কাজ করে কিছুটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে, তাদের সময় এসেছে এবার একটু বেশি পারিশ্রমিক পাওয়ার। যারা অভিজ্ঞ, তারা তো এমনিতেই বেশি পেমেন্টের কাজ পেয়ে থাকে, আর এখনতো তাদের পোয়বারো।

সুতরাং নতুন ফ্রিল্যান্সাররাও শুরুতে একটু বেশি পেমেন্টের কাজ পাবেন বলে আশা করা যায়। তো আর দেরি কেন? আদা-জল খেয়ে মনযোগ দিয়ে ধৈর্য্য সহকারে কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং করতে নেমে পড়ুন। দেশে থেকে বিদেশের কাজ করে রেমিটেন্স নিয়ে আসুন দেশে।

আপনাদের প্রয়োজনে আমার অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়া প্রোফাইলগুলোকে ফলো করতে পারেন। কোন আপডেট থাকলে এগুলো থেকেই পেয়ে যাবেনঃ
Facebook
Youtube Channel
Twitter
LinkedIn
Google Plus

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>