দোস্ত ইন্টারনেটে তুই নাকি অনেক টাকা আয় করিস! আমাকে একটু শিখিয়ে দিবি?

freelanceকিরে দোস্ত! তুই নাকি ইন্টারনেটে অনেক টাকা আয় করিস! আমাকে কি শিখাবি?… মাঝে মাঝে বন্ধুবান্ধবদের এমন আবদারময় কথায় অস্বস্তিই লাগে। আবার অনেকে প্রশ্ন করে “লোকজন অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করে?” আবার কেউ কেউ ভাবে এটা একটা ভূয়া বিষয়। সে কারনেই আমার সেইসব বন্ধুদের জন্য এবং যারা এই বিষয়টাকে বোঝে না, তাদের জন্যই এই মূলত এই লেখা।

আসলে আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং জিনিসটা কি?
Freelancing (ফ্রিল্যান্সিং) শব্দের বাংলা অর্থ মুক্তজীবি। সকল পেশাজীবিদের সাধারণত আলাদা আলাদা নাম থাকে, যেমনঃ যারা সরকারী চাকুরী করে তারা সরকারী চাকুরীজিবী, যারা ব্যবসা করেন তারা ব্যবসায়ী, যারা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা কৃষক, যারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা মৎস্যজীবি। মনে রাখবেন, সবধরনের পেশায় কিন্তু নির্দিষ্ট বিষয়ের উপরে নূ্ন্যতম জ্ঞান থাকতে হয় এবং সেই ধরনের কাজে সক্ষম হতে হয়। Freelancing (মুক্তজীবি) হচ্ছে সেই সব ধরনের পেশার মানুষগুলো, যারা নির্দিষ্ট কোন কাজের বা প্রতিষ্ঠানের কিংবা কোন কোম্পানীর মধ্যে আবদ্ধ নেই। অর্থাৎ কোন একটি কাজ শেষ হওয়ার পরও বাধ্যতামুলক তাদের সেই কাজ বা কোম্পানীতে সংযুক্ত থাকতে হয় না। তাদের শ্রম বা কাজের জন্য অফিসে যেতে হবে না, চাইলে ঘরে বসেই আরাম করে কাজ সম্পাদন করতে পারবে। একজন জেলে নিজে নিজে নদীতে গিয়ে মাছ ধরে বাজারে গিয়ে বিক্রয় করে, তাকে বলা যেতে পারে তিনি একজন ফ্রিল্যান্স মৎসজীবি। একজন সাংবাদিক কোন সংবাদ পত্রিকার অফিসে চাকুরি করেন না, কিন্তু বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রেরণ করে বিনিময়ে সেখান থেকে উপার্যন করেন, তাকে বলা যেতে পারে তিনি একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে অনলাইনে বা ইন্টারনেটে এই কাজগুলো পাব কোথায়?
শুনুন তাহলে। আমরা মাছ কিনতে হলে যেমন মাছের বাজারে যেতে হয়, তেমনি ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য আপনাকে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস এ যেতে হবে। আপনারা অনেকেই হয়তো ওডেস্ক, ফ্রিল্যান্সার, ইল্যান্স ইত্যাদির নাম শুনে থাকবেন (দুঃখিত, যারা নতুন তারা তো এগুলো জানার কথা নয়)! এইগুলো হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং বাজার, যেখানে আপনার জন্য ক্রেতারা বিভিন্ন কাজের বিজ্ঞাপন দিবে এবং নিজের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী কাজের জন্য নিয়োগ দিবে। অনেকদিন কাজ করার ফলে কিংবা ফিক্সড কোন ক্রেতার কাজ সবসময় করার ফলে হয়তো একটা সময় আপনাকে এভাবে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফরমে যেতে হবে না। তবে নতুনদের জন্য কাজ খোঁজার উপযুক্ত জায়গা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলো। এই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে আপনাকে একাউন্ট তৈরী করতে হবে।

কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলো গিয়ে একাউন্ট খুলে করবোটা কি?
যাক, এতক্ষন পর আপনি লাইনে আসছেন। আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে শুধু একাউন্ট খুললেই কাজ হবে না। আপনাকে নির্দিষ্ট কোন একটি বিষয়ে অভিজ্ঞ হয়ে তারপর ঐ কাজে Apply (আবেদন) করতে হবে। আপনি যদি কাজই না জানেন তবে ক্রেতা আপনাকে নিয়োগ দিবে কেন?

এবার আসুন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে এ কি কি কাজ পাওয়া যায়ঃ
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের কাজ পাওয়া যায়, যার মধ্যে Administrative ও ক্রিয়েটিভ কাজ এবং যেইসব কাজ দুনিয়ার একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে সহজেই জমা দেয়া যায় এইধরনের কাজের সংখ্যাই বেশী।

ক্রিয়েটিভ কাজ বলতে কি বুঝি?
আসলে Creative কাজ বলতে আমরা বুঝি, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, মোবাইল এপ্লিকেশান ডেভেলপমেন্ট, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশান, আর্টিকেল লেখা সহ অন্যান্য কম্পিউটার রিলেটেড কাজসমূহকে।

কিন্তু অনেক বিজ্ঞাপনে দেখি ডাটা-এন্ট্রি করে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়!!
কিছু প্রতারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা নতুন সহজ-সরল মানুষকে ফ্রিল্যান্সিং নামক কলা দেখিয়ে এইসব ডাটা এন্ট্রি নামক অকাজের ধোয়া তুলে টাকা আত্মসাৎ করে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে অনেক ভাল এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য ডাটা এন্ট্রি ও ওয়েব রিসার্চ এর কাজ পাওয়া যায়। আপনি যদি কাজের কোয়ালিটি ঠিক রাখতে পারেন, যদি সময় মতো কাজের ডেলিভারি দিতে পারেন, তবে আপনিও পারবেন ক্লায়েন্টএর মন জয় করে দীর্ঘ সময় কাজ ধরে রাখতে।

তাহলে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আমার এখন কী করা উচিৎ?
শুনুন, যদি সত্যিই ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ উপার্জন করতে চান তবে আপনার উচিৎ – Web Design, Graphics Design, Mobile Apps Development, Blogging, Search Engine Optimization , Articular লেখা, Programing, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সহ বিভিন্ন ক্রিয়েটিভ বিষয়গুলোর মধ্যে যেকোন একটি বিষয় বেচে নিয়ে সেটির উপর Skill Develop করা। শেখা সম্পন্ন হলে এবার আস্তে আস্তে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটগুলোতে চেষ্টা চলিয়ে যাওয়া।

সহজ কি কিছু নেই? এই ডাটা এন্ট্রির মতো কিছু?
হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। যদি উপরোক্ত ক্রিয়েটিভ বিষয়গুলো শিখতে না পারেন, তবে দ্রুত টাইপিং করার অভ্যাস তৈরী করুন, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল এ টাইপ করতে শিখুন। ওয়ার্ডপ্রেস, ম্যাজেন্টো, ড্রুপাল, জুমলা CMS এ কিভাবে পণ্য লিষ্টিং করতে হয় তা জানুন। কিংবা Alibaba, eBay, Amazon অথবা বিভিন্ন ক্লাসিফাইড সাইটগুলোতে কিভাবে পণ্য লিষ্টিং করতে হয় সেটি শিখুন।

এছাড়া আরও একটি বিষয় আছে তা হলো ওয়েব রিসার্চ। গুগলে কিভাবে সার্চ করে কাংখিত সঠিক তথ্য খুজে বের করতে হয় তা শিখুন। এ ধরনের তথ্য খুজে বের করার কাজ কে বলা হয় ওয়েব রিসার্চ। একজন ব্যস্ত ক্লায়েন্টের এত সময় নেই তার প্রয়োজনীয় অনেক তথ্য গুগল ঘেঁটে বের করা। সুতরাং আপনি যদি গুগল সার্চিং এ খুব দক্ষ হন, তবে আপনার জন্য ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটগুলোতে রয়েছে অনেক কাজ। যদিও ক্রিয়েটিভ কাজগুলোর তুলনায় এর পেমেন্ট বেশ কম।

কোথায় শিখবেন এইসব কাজ?
ইন্টারনেটে এই সকল বিষয়ের উপর রয়েছে অনেক টিউটোরিয়াল, আর্টিকেল, বই। সার্চ করে পর্যায়ক্রমে শিখতে পারেন অথবা কোন দক্ষ প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে পারেন। আমাদের ব্লগের বিভাগ ভিত্তিক পোষ্টগুলো খুজে দেখুন। অনেক কিছুই পাবেন শেখার মতো। যা শিখে আপনিও তৈরী করতে পারবেন আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার।

আপনাদের প্রয়োজনে আমার অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়া প্রোফাইলগুলোকে ফলো করতে পারেন। কোন আপডেট থাকলে এগুলো থেকেই পেয়ে যাবেনঃ
Facebook | Youtube Channel | Twitter | LinkedIn | Google Plus

আমার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটঃ wadudofficial.com

ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করতে পারেন

টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>