ফ্রিল্যান্সিং পেশা সারা বিশ্বে দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ঘরে বসে কিভাবে অনলাইনে টাকা আয় করা যায়, বা টাকা আয় করার সহজ উপায় নিয়ে তরুনদের প্রশ্ন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অভিজ্ঞরা তরুনদের এবিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন, শিখতে সহায়তা করছে, ফলে প্রতিনিয়ত এই সেক্টরে নতুন নতুন ফ্রিল্যান্সারদের আগমন ঘটছে ও ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এমতবস্থায় কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরী হচ্ছে। পুরাতন ও অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কাজ পাওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ হলেও নতুন ও অনভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কাজ পাওয়া’টা অপেক্ষাকৃত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া অনেক ক্লায়েন্টদের প্রজেক্টগুলো খুবই স্বল্প সময়ের হওয়াতে প্রতিনিয়ত কাজ খোঁজার জটিলতা অনেক নতুন ফ্রিল্যান্সারকে হতাশ করে তুলছে। তবে অভিজ্ঞরা নিজ যোগ্যতায় বিভিন্ন উপায়ে আয়ের সুযোগ বাড়িয়ে নিচ্ছে। অনলাইনে আয়ের যতগুলো পথ আছে, সেগুলোকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি, যেমন অ্যাকটিভ ইনকাম ও প্যাসিভ ইনকাম। আজকের লেখায় অ্যাকটিভ ইনকাম ও প্যাসিভ ইনকাম নিয়েই আলোচনা করব।

আসুন প্রথমেই জানার চেষ্টা করি অ্যাকটিভ ইনকাম কি?

ঘরে বসে অনলাইনে টাকা আয় করার যতগুলো উপায় আছে তার কিছু অংশকে অ্যাকটিভ ইনকাম বলা যায়। আমরা যখন কোন ক্লায়েন্টের কাজ করি, তার বিনিময়ে আমরা পেমেন্ট পাই। কাজ করলে টাকা দিবে, না করলে দিবে না। এই ধরনের আয়ের কৌশল কে বলা হয় অ্যাকটিভ ইনকাম। upwork.com, fiverr.com এখানে আমরা যে কাজগুলো করি এগুলো সবই অ্যাকটিভ ইনকাম-এর মধ্যে পড়ে। আপনি নির্দিষ্ট কোন কাজ শিখলে এবং ক্লায়েন্টদের কাজ করতে পারলে সেটা আপনাকে স্বল্প সময়ে বেশি আয়ের সুযোগ করে দেয়। একজন মানুষ কোন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করলেও তার আয়ের উৎসকেও অ্যাকটিভ ইনকাম হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ তাকে প্রতিনিয়ত সেই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে হয় এবং বিনিময়ে সে মাস শেষে বেতন পায়। এককথায় যে আয়ের কৌশলে প্রতিনিয়ত কাজ করলে টাকা আছে, কাজ না করলে আয় বন্ধ তাকে অ্যাকটিভ ইনকাম বলা হয়। আশাকরি অ্যাকটিভ ইনকাম সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছেন।

এবার আসুন জানার চেষ্টা করি প্যাসিভ ইনকাম কি?

ঘরে বসে অনলাইনে টাকা আয় করার যতগুলো উপায় আছে তার কিছু অংশকে প্যাসিভ ইনকাম বলা যায়। ধরুন আপনি একটি বাড়ির মালিক, আপনি এককালীন টাকা খরচ করে সেই বাড়িতে ৫টি ফ্ল্যাট তৈরী করেছেন এবং সেই বাড়ির ফ্ল্যাটগুলো আপনি ভাড়া দিয়ে আপনি প্রতিমাসে বসে বসে আয় করছেন। নতুন বিনিয়োগ না করে শুধুমাত্র মেইনটেইনেন্স করে এর মাধ্যমে আপনি আয় করছেন। আপনার এই আয়ের কৌশলকে বলা হবে প্যাসিভ ইনকাম। অনলাইনেও এমন আয়ের কৌশল আছে। যেমন আপনি কোন ডিজিটাল পণ্য তৈরী করেছেন। ডিজিটাল পণ্য বলতে কোন সার্ভিস বা সফটওয়্যার তৈরী করেছেন। এখন সেই সফটওয়্যার বিক্রি করে আপনি দীর্ঘ সময় ধরে আয় করছেন। এটা একধরণের প্যাসিভ ইনকাম। এছাড়া হতে পারে আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরী করেছেন, যে ওয়েবসাইট’টি আপনি খুব জনপ্রিয় করতে পেরেছেন, এখন সেই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আপনি দীর্ঘ সময় ধরে আয় করছেন, এটাও একধরণের প্যাসিভ ইনকাম। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পরিশ্রম করে পরবর্তীতে শুধুমাত্র মেইনটেইনেন্স করে এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে আয় করাকে বলা হয় প্যাসিভ ইনকাম। YouTube এ ভিডিও কন্টেন্ট তৈরী করে, Website বা Blog-এ আর্টিকেল পাবলিশ করে, Google AdSense ও Amazon Affiliate প্রোগ্রামের মাধ্যমে আয়ের কৌশলকে বলা হয় প্যাসিভ ইনকাম। এছাড়া themeforest, codecanyon, videohive, audiojungle, graphicriver, photodune, 3docean, shutterstock এ আপনি ওয়েবসাইটের জন্য টেমপ্লেট, প্লাগইন ও স্ক্রিপ্ট, ভিডিও, অডিও, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফটো, ইত্যাদি তৈরী করে সেটা আপলোড করে দীর্ঘ সময় ধরে বিক্রি করে আয় করতে পারেন। যেটা এক ধরনের প্যাসিভ ইনকাম।

এবার আসুন অ্যাকটিভ ইনকাম ও প্যাসিভ ইনকাম এর কিছু তুলনামূলক পার্থক্য দেখা যাক।

অ্যাকটিভ ইনকামঃ

ঘরে বসে অনলাইনে টাকা আয় করার এই কৌশলের ক্ষেত্রে আপনাকে শুধু কাজ শিখলেই হবে। আপনি কাজ করবেন ও পেমেন্ট নিবেন। তবে কাজ শেখার জন্য আপনাকে কিছু প্রফেশনাল কোর্স করা লাগতে পারে এবং কাজ করার জন্য কম্পিউটার বা ল্যাপটপ লাগবে। সেক্ষেত্রে এর জন্য কিছু বিনিয়োগ আপনাকে করতে হবে। তাছাড়া নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আপডেটেট বিভিন্ন সফটওয়্যার এর কাজ শেখা জরুরী। অর্থাৎ আপনাকে কাজ করার পাশাপাশি আপডেটেট বিভিন্ন সফটওয়্যার এর কাজ শেখা’টাও চালিয়ে যেতে হবে।

প্যাসিভ ইনকামঃ

ঘরে বসে অনলাইনে টাকা আয় করার এই কৌশলের ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু বিনিয়োগ করতেই হবে। যেমন, আপনি যদি ওয়েবসাইট বা ব্লগের মাধ্যমে আয় করতে চান, তবে আপনাকে ডোমেইন নেওয়া ও হোষ্টিং করার জন্য কিছু বিনিয়োগ করতে হবে। এতটুকু বিনিয়োগ আপনাকে করতেই হবে। তবে নিজে আর্টিকেল লিখতে পারলে এর জন্য বিনিয়োগ লাগবে না, তবে নিজে আর্টিকেল লিখতে না পারলে প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে আর্টিকেল লেখাতে হবে, সেক্ষেত্রেও আপনাকে কিছু বিনিয়োগ করতে হবে। আপনি যদি এসইও করতে না পারেন, তাহলে প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে এসইও করাতে হবে, সেক্ষেত্রেও আপনাকে কিছু বিনিয়োগ করতে হবে। সেজন্য আপনার কিছু প্রফেশনাল কোর্স করা থাকলে কিছু বিনিয়োগের পরিমান কমে আসবে। তবে প্রফেশনালি কাজ করার জন্য পেইড কিছু সফটওয়্যার ও সার্ভিস দরকার হয়, সেক্ষেত্রেও কিছু বিয়োগ করতে হতে পারে। যখন আমাকে কেউ প্রশ্ন করে, ঘরে বসে অনলাইনে টাকা আয় করার সহজ উপায় কোন’টি? আমার মতে, প্যাসিভ ইনকাম’ই ঘরে বসে অনলাইনে টাকা আয় করার সহজ উপায়।

উপসংহারঃ

অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ দুই উপায়েই ঘরে বসে অনলাইনে টাকা আয় করা যায়। এখন আপনি কোন ধরনের আয়ের উৎস নিয়ে কাজ করবেন, সেটা আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের প্রথমদিকের আয়ের উৎস ছিল অ্যাকটিভ ইনকাম। ধীরে ধীরে নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্যাসিভ ইনকাম এর দিকে মনোযোগ দিয়েছি। এখনও আমি অ্যাকটিভ ইনকাম-এর মাধ্যমে আয় করে প্যাসিভ ইনকাম-এর জন্য বিনিয়োগ করি এবং প্যাসিভ ইনকামও আমার আয়ের বড় উৎস। আশাকরি এই লেখা অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ ইনকাম সম্পর্কে মোটামুটি ভাল ধারণা দিতে সক্ষম হবে এবং আপনারাও হয়ত বুঝতে পেরেছেন টাকা আয় করার সহজ উপায় গুলো।

Spread the love